২০২৬ সালে দেশটিতে জমির গড় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। জাপানের জাতীয় কর সংস্থার দেয়া সাম্প্রতিক তথ্যে এ চিত্র উঠে আসে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, জাপানে জমির মূল্য বৃদ্ধির হার ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১০ সালে দেশটিতে জমির মূল্যায়নের পদ্ধতি পরিবর্তনের পর এবারই সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।"
জাপানের মোট ৪৭টি প্রিফেকচার বা প্রদেশের মধ্যে ৩৬টিতেই জমির দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী টোকিওতে জমির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেখানে বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তালিকায় এর পরই রয়েছে ওকিনাওয়া (৬ দশমিক ৬ শতাংশ) ও ওসাকা (৫ দশমিক ১ শতাংশ)।
বিপরীতে আটটি প্রদেশে জমির দাম কমেছে। এর মধ্যে ওয়াকায়ামায় দশমিক ৫ এবং নিইগাতা ও তোকুশিমায় দশমিক ৪ শতাংশ করে দাম কমেছে। সরকারি হিসাবটি মূলত উত্তরাধিকার ও উপহার কর নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর মধ্যে সাগা শহরের একটি রাস্তায় জমির দাম সবচেয়ে বেশি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এরপর ইওয়ায় প্রদেশের মোরিওকায় ১৩ ও নারা শহরে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে।
কর অফিসের আওতাধীন এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে পর্যটন ও স্কি রিসোর্টের জন্য বিখ্যাত এলাকাগুলোয়। নাগানো প্রদেশের পাহাড়ি গ্রাম হাকুবায় জমির দাম রেকর্ড ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই প্রদেশের নোজাওয়া গ্রামে ৩১ দশমিক ৩ ও হোক্কাইডো স্কি এলাকার কাছের ফুরানো শহরে ২৮ শতাংশ দাম বেড়েছে। এমনকি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সেন্ট্রাল টোকিওর আসাকুসা এলাকায় জমির দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
সব জায়গায় দাম বাড়লেও ব্যতিক্রম ছিল ইশিকাওয়া প্রদেশের ওয়াজিমায়। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বড় ধরনের ভূমিকম্পের শিকার হয় শহরটি। সেখানকার একটি শপিং স্ট্রিটে জমির দাম সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া ২০১১ সালের পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ফুকুশিমা অঞ্চলের কিছু দুর্গম এলাকার জমির মূল্যনির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে টানা ৪১ বছরের মতো জাপানের সবচেয়ে দামি জমির খেতাব ধরে রেখেছে টোকিওর গিনজা শপিং ডিস্ট্রিক্টের কিউকিউদো স্টেশনারি দোকানের সামনের অংশটি। সেখানে প্রতি বর্গমিটার জমির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মার্কিন ডলার)। আগের বছরের তুলনায় এ স্থানের জমির দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে।